উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী জেলা শেরপুরে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে জেলার সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকরা একটি সরকারি মেডিকেল কলেজের দাবি জানিয়ে আসছেন। তাদের বিশ্বাস, এই প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে জেলার স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং স্থানীয় শিক্ষার্থীদের জন্য চিকিৎসা শিক্ষার নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে।
বর্তমানে উচ্চতর চিকিৎসার জন্য শেরপুরের অধিকাংশ রোগীকে ময়মনসিংহ, ঢাকা বা অন্যান্য বড় শহরে যেতে হয়। এতে সময় ও অর্থ—দুইয়েরই অপচয় হয়। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে এই দুর্ভোগ আরও বেশি। একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল চালু হলে জেলার মানুষ নিজ এলাকায় উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবে।
শিক্ষাবিদদের মতে, মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা শুধু চিকিৎসক তৈরির ক্ষেত্রেই ভূমিকা রাখবে না, বরং এটি জেলার অর্থনীতি ও অবকাঠামোগত উন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে। নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে, আবাসন ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের গতি বাড়বে।
স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করেন, শেরপুরের ভৌগোলিক অবস্থান এবং জনসংখ্যার কথা বিবেচনা করলে এখানে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা সময়ের দাবি। জেলার তরুণ শিক্ষার্থীদের অনেকেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন, কিন্তু দূরবর্তী স্থানে গিয়ে পড়াশোনা করার সুযোগ সবার থাকে না। ফলে স্থানীয়ভাবে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী উপকৃত হবে।
তবে সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, শুধু ঘোষণা নয়, দ্রুত বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জমি নির্বাচন, অবকাঠামো নির্মাণ এবং প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা গেলে শেরপুরবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
শেরপুরের মানুষের আশা, ভবিষ্যতে এই জেলায় একটি আধুনিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্রতিষ্ঠিত হবে, যা শুধু শেরপুর নয়, আশপাশের জেলার মানুষের চিকিৎসাসেবারও গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে।
শেরপুর মেডিকেল কলেজ: আজ ৫ সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শনে উচ্চপর্যায়ের টিম
শেরপুরে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল স্থাপনের উপযোগিতা যাচাই করতে আজ স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল জেলার ৫টি সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন করবে। অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে টিমটি নৌহাটা, খোয়ারপাড়, মোবারকপুর, ঢাকলহাটি এবং শেরীব্রিজ এলাকা সরেজমিনে ঘুরে দেখবে।

পরিদর্শনের সময় জমির পরিমাণ, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবেশ ও অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধাসহ বিভিন্ন বিষয় মূল্যায়ন করা হবে। পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দল আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেবে। সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জন্য উপযুক্ত স্থান নির্বাচন করা হতে পারে।
শেরপুরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ। স্থানীয়দের আশা, চলতি বছরের মধ্যেই জমি অধিগ্রহণ সম্পন্ন করে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে। তাদের মতে, একটি মেডিকেল কলেজ শুধু একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নয়, বরং হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্ন পূরণ এবং লাখো মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি।






Leave a Reply